best news portal development company in india

“শিক্ষাকে পণ্য করতে দেব না, জাতীয় শিক্ষানীতি মেনেই হবে আধুনিকীকরণ”: সুকান্তের সঙ্গে মেগা বৈঠকের পর বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

SHARE:

কলকাতা, ১৪ জুলাই ২০২৬: “শিক্ষা কোনও কেনাবেচার পণ্য নয়, মানুষের জীবনের সার্বিক বিকাশের মূল চাবিকাঠি। বিগত জমানার মতো শিক্ষাকে আর বাণিজ্যিকীকরণ হতে দেওয়া হবে না। আমরা জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP)-র আওতায় রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থাকে এক অনন্য উচ্চস্তরে নিয়ে যাব।”— বিকাশ ভবনে এক উচ্চপর্যায়ের মেগা বৈঠক শেষে এই ভাষাতেই রাজ্যের নতুন শিক্ষানীতির রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্র ও রাজ্যের পারস্পরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করতে আজ সল্টলেকের বিকাশ ভবনে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদারের সঙ্গে এক যৌথ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ এবং শিক্ষা দপ্তরের পদস্থ আইএএস আধিকারিকরা। বৈঠক শেষে শিক্ষক নিয়োগের জট কাটানো থেকে শুরু করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লাগামছাড়া ফি নিয়ন্ত্রণ— একাধিক বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও রোডম্যাপ ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী।

বেসরকারি স্কুল-কলেজের ফি কাঠামোয় কড়া নজরদারি, হবে আকস্মিক পরিদর্শন

রাজ্যে গজিয়ে ওঠা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির একাধিপত্য ও লাগামছাড়া ফি বৃদ্ধি রুখতে নবান্ন যে অত্যন্ত কঠোর মনোভাব নিতে চলেছে, তা আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই বিষয়ে তাঁর ঘোষণা:

  • এনওসি পুনর্মূল্যায়ন: ইতিমধ্যেই রাজ্যের যে সমস্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বেসরকারি বি.এড/ডি.এল.এড কলেজ ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (NOC) পেয়েছে, সেগুলিতে শিক্ষা দপ্তরের বিশেষ দল পাঠিয়ে পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হবে।

  • ফি ও পরিকাঠামো যাচাই: পরিদর্শনের সময় যদি দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের ফি কাঠামো যৌক্তিক এবং শিক্ষা দেওয়ার উপযুক্ত পরিবেশ ও বৈধ পরিকাঠামো রয়েছে, তবেই আগামী দিনে তাদের লাইসেন্স বা অনুমতি বহাল রাখা হবে। অন্যথায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

“নিয়োগে থাকবে না রাজনীতির লোক”: এসএসসি-র দায়িত্বে আইএএস, ওবিসি জট কাটানোর আশ্বাস

বিগত তৃণমূল জমানায় শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ নির্মূল করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান শুভেন্দু অধিকারী। নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং রাজনীতিমুক্ত করার জন্য ইতিমধ্যে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-এর চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে একজন অভিজ্ঞ আইএএস (IAS) আধিকারিককে।

বহু প্রতীক্ষিত শিক্ষক নিয়োগের জট কাটানো নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দুটি বড় বার্তা:

“আগের তৃণমূল সরকারের ওবিসি (OBC) সংরক্ষণ সংক্রান্ত ভুলের কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া কিছুটা থমকে গিয়েছিল। আমরা তড়িঘড়ি বিধানসভায় আইন পাশ করিয়ে আগের জমানার ভুল সংশোধন করেছি। পূর্বতন সরকার সুপ্রিম কোর্টে ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে যে মামলাটি ঝুলিয়ে রেখেছিল, আমাদের সরকার আজ আদালতে মেনশন করে সেই মামলা থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। ফলে নিয়োগের আইনি বাধা সম্পূর্ণ দূর হতে চলেছে।”

  • ১২ হাজার শূন্যপদে নিয়োগের সবুজ সংকেত: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, আইনি জট কাটলেই প্রাথমিকে যে ৬ হাজার প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষা (인터뷰) ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, তাঁদের নিয়োগপত্র দ্রুত দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাকি থাকা অন্য ৬ হাজার প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষাও অবিলম্বে শুরু করে দেওয়া হবে।

  • সংকল্পপত্র পূরণ: বিজেপির নির্বাচনী সংকল্পপত্র অনুযায়ী, আগামী দিনে শিক্ষক বা সরকারি কর্মী নিয়োগের কোনও বোর্ডে বা প্রক্রিয়ায় কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অনধিকার প্রবেশ থাকবে না। সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতেই যুবসমাজ চাকরি পাবে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও রাজ্যের এই সদিচ্ছাকে স্বাগত জানিয়ে আশ্বাস দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি সম্পূর্ণভাবে রূপায়ণের ক্ষেত্রে এবং শিক্ষা পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সবরকম আর্থিক ও নীতিগত সাহায্য করা হবে।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *