মেচেদা, ১৩ জুলাই ২০২৬: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সৌজন্যে পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের রাজনীতিতে ‘ঝালমুড়ি’ যে এক অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে, আজ আরও একবার প্রমাণ মিলল তার। পূর্ব মেদিনীপুরের প্রবেশদ্বার মেচেদায় আজ তমলুক সাংগঠনিক জেলার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষ সাংগঠনিক বৈঠকে যোগ দিতে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু সেই হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক আলোচনার আগেই মেচেদার সভাস্থল চত্বর কার্যত রূপ নিল এক অনাবিল ‘ঝালমুড়ি পার্টি’তে।
তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির পক্ষ থেকে এদিনের সভায় আগত দলীয় কর্মীদের জন্য বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আর সেই মেনুর প্রধান আকর্ষণই ছিল খাঁটি বাঙালি স্টাইলের ঝালমুড়ি। রাজ্যের ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের বিজেপি জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বুথ স্তরের কর্মীরা— প্রত্যেকেই এই ঝালমুড়ি উপভোগ করতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েন।
ঝাড়গ্রাম থেকে মেদিনীপুর ভবন: ‘ঝালমুড়ি’ রাজনীতির সেই ফ্ল্যাশব্যাক
বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এই ঝালমুড়ি ঘিরে এমন নজিরবিহীন উচ্ছ্বাসের পিছনে রয়েছে ২৬-এর ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনের এক স্মরণীয় স্মৃতি।
ইতিহাসের সেই রোমাঞ্চকর তথ্যগুলি নিচে দেওয়া হলো:
-
মোদীর আকস্মিক ঝালমুড়ি বিলাস: ছাব্বিশের নির্বাচনের জমজমাট প্রচার চলাকালীন ঝাড়গ্রামে এক মেগা জনসভা করতে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সভা শেষে ফেরার পথে আচমকাই প্রোটোকল ভেঙে রাস্তার ধারের একটি সাধারণ দোকানে ঢুকে পড়েন তিনি এবং সেখানে দাঁড়িয়ে নিজের হাতে মেখে ঝালমুড়ি খান।
-
মমতার তীব্র কটাক্ষ: প্রধানমন্ত্রীর এই ঝালমুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুরের সভা থেকে তীব্র ব্যঙ্গ-কটাক্ষ করে বলেছিলেন, “দিল্লির বাবুরা ভোটের আগে এসে ঝালমুড়ি খাচ্ছেন, আর ভোট ফুরোলেই বাংলাকে ভুলে যাবেন।”
-
শুভেন্দুর রিটার্ন গিফট: সমস্ত জল্পনা ও কটাক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়লাভের পর, নবান্নের নতুন কুর্সিতে বসেই প্রথম দিল্লি সফরে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর জন্য কলকাতার সেরা ঝালমুড়ি নিজের হাতে পরিবেশন করেছিলেন। এমনকি প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন বিদেশ সফরের সময়ও বারবার প্রবাসীদের মুখে এই ঝালমুড়ির গল্প শিরোনামে উঠে এসেছে।
ঝালমুড়ির স্টলে জনসমুদ্র: হাজির পঞ্চায়েত থেকে জেলা পরিষদের সদস্যরা
আজ মেচেদার দলীয় কনভেনশন হলের বাইরে থরে থরে সাজানো ছিল নানা ধরনের খাবারের স্টল। কিন্তু বাকি সব স্টলকে টেক্কা দিয়ে ভিড়ের নিরিখে নজর কাড়ল ঝালমুড়ির কাউন্টারটি।
বিজেপির সাংগঠনিক স্তরের শীর্ষ নেতাদের নিজেদের তত্ত্বাবধানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ির ঠোঙা কর্মীদের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়। এই ‘ঝালমুড়ি পার্টি’তে সামিল হয়েছিলেন জেলার নবনির্বাচিত গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য, পঞ্চায়েত সমিতির পদাধিকারী এবং জেলা পরিষদের হেভিওয়েট সদস্যরাও।
জনৈক এক বিজেপি কার্যকর্তা হেসে জানালেন, “ঝালমুড়ি এখন আর স্রেফ খাবার নেই, এটা আমাদের আবেগ এবং আমাদের জয়ের প্রতীক। দিদিমণি (মমতা) বলেছিলেন ঝালমুড়ি খেয়ে ভোট পাওয়া যায় না; মেদিনীপুরের মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে, ঝালমুড়ি খেয়েই আমরা বুথ আগলেছি আর ডবল ইঞ্জিন সরকার এনেছি। আজ শুভেন্দুবাবুর কড়া দাওয়াই শোনার আগে এই ঝালমুড়ি আমাদের এনার্জি বাড়িয়ে দিল।”
তৃণমূল জমানার দুর্নীতি ও তোলাবাজির অবসানের পর, মেদিনীপুরের মাটিতে বিজেপির এই বিজয়োল্লাস ও ঘরোয়া মেজাজ আগামী দিনে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও মজবুত করবে বলেই বিশ্বাস গেরুয়া শিবিরের।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







