আগামীকাল (২৩ এপ্রিল, ২০২৬) বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগে বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। কলেজ অধ্যাপকদের ভোটের কাজে নিয়োগের ওপর সিঙ্গল বেঞ্চ যে স্থগিতাদেশ দিয়েছিল, তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা বাধ্যতামূলক এবং এই বৃহৎ গণতান্ত্রিক কর্মযজ্ঞে অধ্যাপকদের যোগদান অপরিহার্য।
আদালতের পর্যবেক্ষণের মূল দিকগুলি:
-
জাতীয় স্বার্থ: আদালত জানিয়েছে, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সরকারি ও সরকার-পোষিত কলেজের অধ্যাপকদের নিয়োগে কোনো আইনি বাধা নেই।
-
সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ খারিজ: এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চ অধ্যাপকদের ভোটদান প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার নির্দেশ দিলেও, ডিভিশন বেঞ্চ মনে করে যে ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
-
প্রিসাইডিং অফিসারের গুরুত্ব: অধ্যাপকদের যদি প্রিসাইডিং অফিসারের মতো দায়িত্বশীল পদে নিয়োগ করা হয়, তবে তা পদের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলেই আদালত মনে করে।
-
কমিশনের প্রয়োজনীয়তা: নির্বাচন কমিশন আদালতকে জানিয়েছে, রাজ্যে ৯০ হাজার বুথের জন্য প্রায় ২ লক্ষ প্রিসাইডিং অফিসার প্রয়োজন। এই অবস্থায় অভিজ্ঞ ও উচ্চশিক্ষিত কর্মীদের বাদ দেওয়া অসম্ভব।
আইনজীবীদের যুক্তি ও বিধির প্রশ্ন:
অধ্যাপকদের পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন যে, ‘গ্রুপ এ’ অফিসার বা সমতুল্য পদের ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া বুথ স্তরের ডিউটি দেওয়া যায় না। এছাড়া নিয়োগের ক্ষেত্রে পদমর্যাদা (Rank Status) ও বেতনক্রম বিচার করার যে বিধি রয়েছে, তা মানা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয়। তবে আদালত জাতীয় কর্তব্যের স্বার্থে কমিশনের ২০২৩ সালের বিজ্ঞপ্তিকে মান্যতা দিয়ে অধ্যাপকদের কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ বহাল রেখেছে।
এর ফলে প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগে কয়েক হাজার কলেজ শিক্ষককে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519






