১৫২টি আসনের জন্য লড়া মোট ১৪৭৫ জন প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রায় ২৩ শতাংশ বা ৩৪৫ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ শতাংশ বা ২৯৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা এবং মহিলাদের ওপর অত্যাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ১৯ জনের বিরুদ্ধে খুনের মামলা এবং ১০৫ জনের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ নির্বাচনী পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
রাজনৈতিক দলভিত্তিক পরিসংখ্যানে বিজেপি সবথেকে বেশি অস্বস্তিতে। তাদের ১৫২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনেরই (৭০%) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৯৬ জন গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত। তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৩ জন (৪৩%) এবং সিপিআই(এম)-এর ৯৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৩ জন (৪৪%) একই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। কংগ্রেসের প্রার্থীদের মধ্যে এই হার তুলনামূলকভাবে কম, ১৫১ জনের মধ্যে ৩৯ জন (২৬%) মামলার কথা জানিয়েছেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামে সর্বাধিক ২৯টি মামলা রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন এই পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করছে। ইতিমধ্যেই ৬৬টি কেন্দ্রকে ‘রেড অ্যালার্ট কনস্টিটিউয়েন্সি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে অন্তত ৩ জন বা তার বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন অপরাধমূলক ভাবমূর্তি থাকা প্রার্থীদের টিকিট দেওয়া হলো, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যদিও দলগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব মামলাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। প্রথম দফার ভোটের আগে এই অপরাধমূলক খতিয়ান সাধারণ ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







