দীর্ঘ ৩৪ বছর বাংলার রাজনীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল সিপিএমের ‘কৌটো ঝাঁকিয়ে’ চাঁদা তোলার চিরাচরিত দৃশ্য। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই ঘরানায় এক বড়সড় বদল এনেছে আলিমুদ্দিন। প্রথাগত পথে নেমে অর্থ সংগ্রহের পাশাপাশি এবার ডিজিটাল মাধ্যম ও প্রযুক্তির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে বামেরা। সরাসরি দলের ডিজিটাল তহবিলের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ইউপিআই (UPI) এবং কিউআর কোড ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে অনুদানের আর্জি জানানো হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দলের ছাত্র ও যুব সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য এই ‘ক্রাউড ফান্ডিং’ মডেলটি বেশ সফল হয়েছে। গত ২০২১ সালের নির্বাচনেও কিছু তরুণ প্রার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই পদ্ধতিতে লড়াইয়ের রসদ জুটিয়েছিলেন। সেই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই এবার দলগতভাবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমাজমাধ্যমে সক্রিয় সিপিএমের যুব নেতা-নেত্রীরা নিয়মিতভাবে এই তহবিলের প্রচার চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনুদান সংগ্রহ করে বড় নির্বাচনী ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন বামেদের প্রধান রণকৌশল।
ডিজিটাল অর্থসংগ্রহের পাশাপাশি এবারের প্রচারেও আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। শুধু চাঁদা তোলা নয়, প্রচারেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-র মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে সিপিএম। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আর্থিক সঙ্কটের মোকাবিলায় এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই টেক-স্যাভি পদ্ধতি বাম কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে এই ‘ডিজিটাল বিপ্লব’ কতটা কার্যকরী হয়, ২০২৬-এর নির্বাচনী ফলাফলই তার প্রমাণ দেবে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







