ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশের পর রাজ্য রাজনীতিতে তপ্ত বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন এই রায়কে ‘মা-মাটি-মানুষের জয়’ বলে উল্লাস প্রকাশ করেছেন, ঠিক তখনই বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন। এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, পুরোনো তালিকা হোক বা নতুন—যেভাবেই ভোট হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় নিশ্চিত।
শমীক ভট্টাচার্যের প্রধান বক্তব্য ও আক্রমণ:
-
পরাজয়ের ভবিষ্যদ্বাণী: শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন, তৃণমূল নেত্রীর উৎসাহিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তাঁর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে চান সেভাবেই ভোট করান, কিন্তু চতুর্থবারের জন্য তিনি আর মুখ্যমন্ত্রী হতে পারবেন না। তৃণমূলের সময় শেষ হয়ে গিয়েছে।”
-
কমিশনের প্রতি অসন্তোষ: বিজেপি নেতা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি জানান, বিজেপি এই প্রক্রিয়ায় মোটেও সন্তুষ্ট নয়। কমিশনের বিরুদ্ধে ‘অভিমান’ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাদের ফর্ম-৭ এর শুনানি ঠিকমতো হয়নি। সাংবিধানিক সংস্থার প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, কমিশন আমাদের সব কথা শোনেনি।”
-
চ্যালেঞ্জের সুর: বিজেপির আত্মবিশ্বাসী বার্তা হলো, ভোটার তালিকায় শেষ মুহূর্তে নাম যুক্ত হলেও নিচুতলার রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো বদল আসবে না এবং মানুষ তৃণমূলকে প্রত্যাখ্যান করবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে রায় দিয়েছে যে, নির্বাচনের দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে যোগ্য বিবেচিত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। কমিশনকে সেই অনুযায়ী সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করতে হবে। এই রায় শাসক শিবিরের জন্য বড় স্বস্তি হলেও, বিজেপি একে ভোটার তালিকায় ‘কারচুপি’র সুযোগ হিসেবেই দেখছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519






