আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে ‘শান্তি দূত’ হিসেবে তুলে ধরার মরিয়া চেষ্টা চালালেও নিজের দেশেই এখন ঘোর অন্ধকারে পাকিস্তান। একদিকে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের দ্বিতীয় দফার মধ্যস্থতা করার প্রস্তুতি, অন্যদিকে দেশের তলানিতে ঠেকে যাওয়া অর্থনীতি ও নজিরবিহীন বিদ্যুৎ সংকট—এই দুইয়ের চাপে দিশেহারা শাহবাজ শরিফ সরকার।
ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও লোডশেডিং:
-
১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাবে এলএনজি (LNG) সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গ্রামীণ এলাকায় দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা এবং শহরাঞ্চলেও ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে।
-
উৎপাদন ব্যাহত: করাচি ও লাহোরের শিল্পাঞ্চলগুলিতে দিনে অন্তত ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। ফলে দেশের রপ্তানি ও স্থানীয় উৎপাদন ব্যবস্থায় ধস নেমেছে।
-
বিপুল ঘাটতি: বুধবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানে বিদ্যুতের ঘাটতি ৪,৫০০ মেগাবাইট ছাড়িয়ে গেছে, যা মোট চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং আমদানিকৃত গ্যাসের উচ্চমূল্য এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক:
এই চরম বিশৃঙ্খলার মাঝেই আগামী সপ্তাহে ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক আয়োজন করতে চলেছে পাকিস্তান। প্রথম দফার বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান অসীম মুনির কূটনৈতিক দৌত্য শুরু করেছেন। দুই সপ্তাহব্যাপী চলা সাময়িক যুদ্ধবিরতি যাতে স্থায়ী চুক্তিতে রূপান্তর করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক বৈপরীত্য:
যেখানে নিজের দেশের নাগরিকদের নূন্যতম বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে সরকার ব্যর্থ, সেখানে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের বিপুল ব্যয়ভার কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। প্রথম দফার বৈঠকের সময় পাঁচতারা হোটেলের বিল মেটাতে না পারার অস্বস্তিকর স্মৃতির পর এবার পাকিস্তান কীভাবে এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক পরিচালনা করে, সেদিকেই নজর রাখছে বিশ্ব।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







