আসন্ন মহরম উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার লালবাজারের পক্ষ থেকে কলকাতা তথা রাজ্য পুলিশের সমস্ত থানার আধিকারিক ও ডেপুটি কমিশনারদের (DC) নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করা হয়। সেই বৈঠকেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আগামী শুক্রবারের মহরমের কোনও শোভাযাত্রায় বা মিছিলে কোনও ধরনের চোট-আঘাত লাগতে পারে এমন সনাতনী বা আধুনিক ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন বা বহন করা যাবে না। ধর্মীয় উৎসবের নামে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় হাঁটার জেরে আমজনতার মনে তৈরি হওয়া আশঙ্কার পরিবেশ দূর করতেই নবান্ন ও পুলিশ প্রশাসনের এই যৌথ সিদ্ধান্ত।
লালবাজারের উচ্চপদস্থ সূত্র মারফত জানা গেছে, এবারের মহরমে সম্পূর্ণ নতুন কোনও লাঠিখেলা বা তাজিয়া শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না; কেবল বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী পুরনো মিছিলগুলিই সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রাস্তায় বের হতে পারবে।
ট্রাফিক ও শব্দ দূষণ রুখতে লালবাজারের ৫ দফা গাইডলাইন:
শোভাযাত্রাগুলির শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং মহানগরের স্বাভাবিক জনজীবন সচল রাখতে পুলিশ প্রশাসন মূলত এই ৫টি বিষয়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে:
-
অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ: ঐতিহ্যবাহী বা প্রতীকী— কোনও রূপেই তলোয়ার, ছুরি বা অন্য কোনও বিপজ্জনক অস্ত্র মিছিলে প্রদর্শন করা যাবে না।
-
তাজিয়ার উচ্চতায় রাশ: মিছিলে ব্যবহৃত তাজিয়ার উচ্চতা যেন অতিরিক্ত বা আকাশছোঁয়া না হয়, সেদিকে আয়োজকদের কড়া নজর রাখতে হবে; যাতে রাস্তার ওপর ঝুলে থাকা ওভারহেড কেবল বা বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বড়সড় দুর্ঘটনা না ঘটে।
-
ডিজে ও শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ: মিছিলে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে ডিজে (DJ) বক্স। যদি সাধারণ মাইক বা লাউডস্পিকার বাজানো হয়, তবে তা কলকাতা হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট ডেসিবেল মাত্রা মেনেই বাজাতে হবে।
-
উস্কানিমূলক বার্তায় নিষেধাজ্ঞা: শোভাযাত্রা বা লাউডস্পিকার থেকে এমন কোনও সংবেদনশীল, রাজনৈতিক বা উস্কানিমূলক স্লোগান ও বার্তা দেওয়া যাবে না, যা সামাজিক শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে।
-
আয়োজকদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক: প্রতিটি থানার পুলিশ আধিকারিকদের নিজ নিজ এলাকার মহরম কমিটির উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সরকারি নিয়মাবলী সম্পর্কে তাঁরা আগেভাগেই সচেতন হতে পারেন।
ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের দিনটিতে মহানগরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং যে কোনও ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগামী শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার বুকজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করছে লালবাজার। প্রশাসনের এই কড়া ও নিরপেক্ষ অবস্থানের জেরে একদিকে যেমন শব্দ ও পরিবেশ দূষণ রোখা সম্ভব হবে, ঠিক তেমনই সাধারণ মানুষও সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে রাস্তায় যাতায়াত করতে পারবেন বলে মনে করছে পুলিশি মহল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







