ইজরায়েলে কি এবার ক্ষমতার পালাবদল হতে চলেছে, নাকি ফের প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসবেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু? এই প্রশ্ন ঘিরেই উত্তপ্ত ইজরায়েলের রাজনৈতিক মহল। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর বিরোধী শিবিরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে ঘিরেও রয়েছে আগ্রহ। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের অতর্কিত হামলার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি, দীর্ঘ সামরিক অভিযান এবং সরকারের ভূমিকা—সবকিছুই এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
ইজরায়েলের সংসদকে বলা হয় নেসেট। মোট ১২০টি আসনের এই সংসদে সরকার গড়তে অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। তাই ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না; তাঁরা রাজনৈতিক দলকে ভোট দেন। নির্বাচনের পর বিভিন্ন দলের আসনসংখ্যা এবং জোট গঠনের সমীকরণের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয় কে সরকার গড়বেন।
নেতানিয়াহু চাইছেন, ভোটাররা হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান, হিজবুল্লাহর সামরিক শক্তি দুর্বল করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েলের পদক্ষেপের বিষয়গুলি বিবেচনা করুন। তাঁর বিরোধীরা আবার ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ইজরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সেই হামলার পর সরকারের দায়িত্ব ও নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে।
প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট-সহ বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে বিরোধী শিবিরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল, নির্বাচনে ভালো ফল করার পাশাপাশি সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করা। বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য এবং আরব দলগুলির সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে বিতর্ক বিরোধীদের হিসাব জটিল করে তুলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ইজরায়েলের নির্বাচনের ফল শুধু নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎই নয়, দেশের নিরাপত্তানীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতায় কে আসবেন, তা নির্ভর করবে নির্বাচনের ফল এবং সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন আদায়ের উপর।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







