বক্সার জঙ্গলে বাঘের স্থায়ী বসবাস গড়ে তোলার উদ্যোগ কি ধাক্কা খেল? বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে আসা বাঘিনির দেখা মিলছে না বক্সায়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাঘিনিটি অন্য এলাকায় চলে গিয়েছে বলে খবর। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান বলে জানা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বক্সার জঙ্গলে বাঘের স্থায়ী বসবাসের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে কি না।
এই পরিস্থিতিতে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী তথা বিজেপি বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাওঁ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, বাঘ বা বাঘিনি কোনও রাজ্যের সীমানা বোঝে না। নতুন এলাকায় ছাড়া হলে প্রথমে আশপাশের জঙ্গল ঘুরে দেখে, তারপর নিজের বসবাসের জায়গা বেছে নেয়। বাঘিনিটির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে বলে তাঁর ব্যাখ্যা।
বনমন্ত্রী বলেন, “বাঘিনি জানে না কোনটা অসম, কোনটা বাংলা আর কোনটা ভুটান। ওদের যখন ছাড়া হয়, তখন আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখার চেষ্টা করে। তারপর স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করে।” তাঁর দাবি, বাঘিনিটিকে প্রথম থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছে। অসমে চলে যাওয়ার খবর প্রসঙ্গে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, তাঁর বাড়ি থেকে অসমের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। তাই আশপাশের এলাকায় গেলেই কেউ অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছে, এমনটা বলা যায় না।
উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে তিন বছর বয়সি বাঘিনিটিকে বক্সা টাইগার রিজার্ভের জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার লক্ষ্যেই রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ। কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাঘিনিটিকে জঙ্গলে ছাড়েন।
কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বাঘিনিটির অন্য এলাকায় চলে যাওয়ার খবর সামনে আসায় এই প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে বাঘিনিটির অবস্থান এবং ভবিষ্যতে বক্সায় ফিরে আসার সম্ভাবনা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে বন দফতরের নজরদারিই এখন ভরসা।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







