দুই দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল। ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ মার্কিন সেনারা ইরাকের মাটি ছেড়েছে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করার সামরিক অভিযানের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল এই দীর্ঘ অধ্যায়। ২০১১ সালে মার্কিন সেনা একবার ইরাক ছেড়ে গেলেও, ২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের উত্থানের পর ফের মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী সেখানে ফিরে আসে। এবার সেই অধ্যায়েরও সমাপ্তি।
মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, ইরাকের নিরাপত্তা কতটা সামলাতে পারবে বাগদাদ। বিশেষ করে ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে ওই গোষ্ঠীগুলির একাংশ নিজেদের সাফল্য হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ইরাকি সরকার চায়, দেশের সমস্ত অস্ত্র শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আসুক। কিন্তু শক্তিশালী কয়েকটি মিলিশিয়া এখনও নিরস্ত্রীকরণের বিষয়ে অনিচ্ছুক।
প্রাথমিকভাবে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে অস্ত্র সমর্পণের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। ইরাকি সরকারের তরফে এখন নিরস্ত্রীকরণের সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরাকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হয়ে গেল—এমনটা বলার সুযোগ নেই। বরং দেশের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে বদলায়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
২০০৩ সালের যুদ্ধের নেপথ্যে ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্রের অভিযোগ বড় ভূমিকা নিয়েছিল। পরে ইরাক সার্ভে গ্রুপের তদন্তে সেই সময়কার মার্কিন দাবির সমর্থনে সক্রিয় পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুই দশক পরে সেই যুদ্ধের রাজনৈতিক ও কৌশলগত উত্তরাধিকার এখনও ইরাকে স্পষ্ট। মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে বাগদাদ যেখানে সার্বভৌমত্বের নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে, সেখানে প্রশ্ন একটাই—বিদেশি সেনা ছাড়াই ইরাক নিজের নিরাপত্তা ও বিভিন্ন সশস্ত্র শক্তির মধ্যে ভারসাম্য কতটা বজায় রাখতে পারে?
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







