ভারত কি এবার আমেরিকার উপর পাল্টা কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে চাইছে? সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অন্তত সেই সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট করেছেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে আমেরিকা যথেষ্ট গুরুত্ব না দিলে তার প্রভাব ভারত-মার্কিন সম্পর্কে পড়তে পারে। অর্থাৎ ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে দিল্লি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছে।
এর মধ্যেই ৩০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মোদী জানিয়েছেন, বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ একাধিক বিষয়ে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে এবং দুই নেতা ভারত-মার্কিন ‘Comprehensive Global Strategic Partnership’ আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার কথা বলেছেন।
কিন্তু আসল প্রশ্ন শুল্ক নিয়ে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার দেশগুলির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পকে দিয়েছে সদ্য পাশ হওয়া Lindsey O. Graham Sanctioning Russia and Iran Act of 2026। আইনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভারতের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপায়নি, তবে কোন দেশকে কতটা শুল্কের আওতায় আনা হবে, সেই সিদ্ধান্তের ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে রয়েছে। ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্কের আশঙ্কা এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করতে চাইছে দিল্লি, অন্যদিকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি এবং নিজের কৌশলগত সিদ্ধান্তের স্বাধীনতাও ধরে রাখতে চাইছে ভারত। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য খুঁজে নেওয়াই এখন মোদী সরকারের বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। তাই মোদী-ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপকে শুধু সৌজন্য বৈঠক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই—শুল্ক, জ্বালানি নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ এবং কৌশলগত স্বার্থ, সবকটি বিষয়ই এখন ভারত-মার্কিন সম্পর্কের আলোচনার কেন্দ্রে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







