শুক্রবার ধর্মতলায় CJP-র ডাকা বিক্ষোভ মিছিলের শেষপর্বে অশান্তির ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের দেখতে রাতেই এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে পরে হাসপাতালে যান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুক্রবারের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধর্মতলায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, মিছিলের একাংশ থেকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও চিত্রসাংবাদিকদের লক্ষ্য করে প্রথমে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরে তাঁদের উপর শারীরিক হামলাও চালানো হয়। এই ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাঁদের এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ভর্তি করা হয়।
রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী হাসপাতালে পৌঁছে আহত সাংবাদিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। চিকিৎসকদের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। প্রায় আধঘণ্টা হাসপাতালে কাটানোর পর বাইরে এসে সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন। ওদের সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করতে হয়, আমি জানি। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল ছাড়ার কিছুক্ষণ পর সেখানে পৌঁছন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আহত সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করে তিনি বলেন, “এটা কোনও ছাত্র আন্দোলনের চেহারা নয়। যেসব ভিডিও দেখেছি এবং যেভাবে সাংবাদিকদের উপর হামলা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নামে এ ধরনের হিংসার কোনও স্থান নেই।”
এদিকে, মিছিলে উপস্থিত এক সমর্থকের দাবি, আন্দোলনের মধ্যে কিছু বহিরাগত ও দেশবিরোধী মানসিকতার মানুষ ঢুকে পড়েছিল। তারাই পুলিশ এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
ঘটনার পর আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা দেদীপ্ত গঙ্গোপাধ্যায়ও হামলার নিন্দা করে বলেন, “যাঁরা অশান্তি করতে চান, তাঁরা আমাদের আন্দোলনে না এলেই ভালো। আমরা কোনও রকম গুন্ডামি সমর্থন করি না। আমাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ দাবিদাওয়াকে কেন্দ্র করেই চলবে।”
ধর্মতলার এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা যেমন শুরু হয়েছে, তেমনই সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







