কলকাতা, ২০ জুলাই ২০২৬: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের বিতর্কিত আমতলা পার্টি অফিসে (Amtala Party Office) আপাতত চালানো যাবে না বুলডোজার! রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর কড়া স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট। রবিবার ছুটির দিনে জরুরি ভিত্তিতে গঠিত বিশেষ বেঞ্চে শুনানির পর এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরী। আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই ভবনের ওপর নতুন করে কোনও ভাঙচুর বা উচ্ছেদ সংক্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার আমতলার ওই বহুতল অফিসে আকস্মিকভাবে বুলডোজার নিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন অভিযানে নামতেই শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। এরপরেই উচ্ছেদ অভিযান আটকাতে তড়িঘড়ি আদালতের দ্বারস্থ হন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ছুটির দিনে আদালতে নাটকীয় ড্রামা ও জরুরি শুনানি
রবিবার সকালে অভিষেকের আইনজীবীরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির বিশেষ অনুমতি নেন।
রোববার কোর্টরুমের ঘটনার ক্রমানুসার:
-
প্রথম দফার বিলম্ব: পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বেলা ১২টায় বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর এজলাসে শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে রাজ্য সরকারের সংশ্লিষ্ট আইনজীবী যথাসময়ে উপস্থিত না থাকায় প্রথম দফায় শুনানি স্থগিত রাখা হয়।
-
দ্বিতীয় দফায় শুনানি: পরবর্তীতে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ পুনরায় শুনানি শুরু হয়।
-
অভিষেকের আইনজীবীদের যুক্তি: আদালতে অভিষেকের আইনি দল দাবি করে, কোনও উপযুক্ত আইনি নোটিস দেওয়া ছাড়াই এবং কোনো আপিল করার সময় না দিয়েই রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত ছুটির মুখে হঠাৎ বুলডোজার চালিয়ে পাঁচতলা ভবনটি ভেঙে ফেলার চেষ্টা করছে জেলা প্রশাসন।
কেন বিতর্ক? ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ ও বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ
আমতলার এই পাঁচতলা ভবনটি নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, এই ভবনটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভার সাংসদ কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হলেও নথি অনুযায়ী এর মালিকানা রয়েছে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ (Leaps and Bounds) সংস্থার নামে, যার অন্যতম ডিরেক্টর অভিষেকের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিযোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপের রূপরেখা:
-
নকশাহীন নির্মাণের অভিযোগ: রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগেই সুশান্ত মণ্ডল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জেলা পরিষদে লিখিত অভিযোগ করেন যে, পঞ্চায়েত বা জেলা পরিষদের কোনও অনুমোদিত নকশা (Sanction Plan) ছাড়াই বেআইনিভাবে এই বিশাল ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছে।
-
প্রশাসনের নোটিস: ওই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিযোগকারী সুশান্ত মণ্ডল এবং মতিউর রহমান মল্লিককে নোটিস পাঠানো হয়।
-
অনুপস্থিতি ও অ্যাকশন: নোটিসে গত ১৫ জুলাই দুপুর ২টোর সময় সমস্ত নথি নিয়ে জেলা পরিষদে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক সূত্রে দাবি, নির্ধারিত দিনে অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর প্রতিনিধি হাজির হননি। এরপরই গত শনিবার সকাল থেকে বুলডোজার নিয়ে ভাঙার কাজ শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন।
অবশেষে হাইকোর্টের রবিবাসরীয় এই অন্তর্বর্তী নির্দেশে সাময়িকভাবে হলেও স্বস্তি পেল ব্যানার্জি পরিবার ও তাঁদের আইনি দল। আগামী সপ্তাহে নিয়মিত বেঞ্চে মূল মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







