নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সি, ২০ জুলাই ২০২৬: দীর্ঘ প্রথমার্ধ ও নির্ধারিত ৯০ মিনিটের গোলশূন্য লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তরেসের জয়সূচক গোল! আর তাতেই বিশ্বসেরার মুকুট ছিনিয়ে নেয় স্পেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের উৎসবের মাঝেই ঘনিয়ে এলো চরম বিষাদ ও বিশৃঙ্খলা। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠের ফুটবল যুদ্ধের চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল দুই দলের অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষ। আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম মেগা ফাইনালের শেষ মুহূর্তে ট্রফি হাতছাড়া করার যন্ত্রণা ও চরম হতাশায় মেজাজ হারিয়ে সরাসরি মারামারিতে জড়িয়ে পড়লেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা।
স্প্যানিশ ফুটবলারদের মেগা জয়ের সেলিব্রেশন চলাকালীন মাঠের ঠিক মাঝখানে তৈরি হয় হাতাহাতির অনভিপ্রেত দৃশ্য। আর এই অপ্রীতিকর হিংসাত্মক সংঘর্ষের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারাদেস।
কেন এবং কীভাবে ছড়ালো অশান্তির আগুন?
ম্যাচ চলার সময়েই পারাদেস ছিলেন বেশ আক্রমণাত্মক। দ্বিতীয়ার্ধের ৫২ মিনিটে স্পেনের দানি ওলমোকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ায় আগেই একটি হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন তিনি। তবে রুদ্ধশ্বাস ১২০ মিনিটের খেলা শেষ হতে না হতেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়।
সংঘর্ষের ঘটনাপ্রবাহ:
-
এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধাক্কা: খেলা শেষ হতেই উদযাপনে মত্ত স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়ার দিকে রে রে করে তেড়ে যান পারাদেস। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে গার্সিয়ার গলা চেপে সজোরে তাকে ধাক্কা মেরে মাটিতে ফেলে দেন তিনি।
-
গাভিকে ঘুষি ও মাটিতে আছাড়: গার্সিয়াকে বাঁচাতে দৌড়ে আসেন স্পেনের তরুণ তুর্কি গাভি (Gavi)। সেখানেও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাভিকে আক্রমণ করেন পারাদেস। গাভির মুখে আঘাত করার পাশাপাশি তাঁকে আছাড় মেরে ফেলে দেন এবং বদলি ফুটবলারের ট্রেনিং বিব ধরে টানাটানি শুরু করেন।
-
অন্যান্য ফুটবলারদের সংযোজন: শুধু পারাদেস নন, একই সময়ে আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা এবং তিয়াগো আলমাদাকেও স্প্যানিশ ফুটবলারদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
মেজাজ হারালেন ‘শান্ত’ স্কালোনি, ম্যাচ শেষে লাল কার্ড পারাদেসকে
পরিস্থিতি চূড়ান্ত হাতাহাতিতে রূপ নিলে দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন দুই দলের সাপোর্ট স্টাফ ও সহকারী কোচরা। সাধারণত ম্যাচ জুড়ে শান্তশিষ্ট ভাবমূর্তির জন্য পরিচিত আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ী কোচ লিওনেল স্কালোনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন। নিজের শিষ্য পারাদেসকে এক প্রকার টানতে টানতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। তবে তার আগেই স্পেনের এরিক গার্সিয়া ও রোদ্রিগেজের সঙ্গে তীব্র বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন স্কালোনিও।
বিশ্বকাপ ফাইনালের বিশ্বমঞ্চে এমন অভদ্র আচরণের মাশুল হাতেনাতেই গুনতে হয় পারাদেসকে। ম্যাচ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেলেও ম্যাচ রেফারি তাঁকে সরাসরি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে লাল কার্ড (Red Card) প্রদান করেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসের খুব কম ফাইনাল ম্যাচেই শেষ বাঁশি বাজার পর কোনও ফুটবলারকে এমন লাল কার্ড দেখতে হয়েছে।
ক্রীড়ামহলে তীব্র নিন্দা: “লজ্জাজনক ও ঘৃণ্য আচরণ”
স্পেনের এই ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দের মাঝে আর্জেন্টিনা দলের এই নজিরবিহীন মারামারির ঘটনা বিশ্ব ফুটবলে মারাত্মক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের ধারাভাষ্যকার অ্যালান শিয়ারার এবং জো হার্ট পুরো বিষয়টিকে “একদমই লজ্জাজনক, অনভিপ্রেত ও ঘৃণ্য আচরণ” বলে তোপ দেগেছেন। যদিও বিশ্বজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি মাঠের এই চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যেও স্পেনের প্রতিটি ফুটবলারের সঙ্গে করমর্দন করে খেলোয়াড় সুলভ সৌজন্য প্রদর্শন করেছেন, তবুও লিয়ান্দ্রো পারাদেসের এই গুন্ডামি ও অভদ্র আচরণ ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের গৌরবময় সমাপ্তিতে এক বড়সড় কালো দাগ ফেলে দিল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







