নয়াদিল্লি, ১৮ জুলাই ২০২৬: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ‘আসল তৃণমূল’ বনাম ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ শিবিরের আইনি লড়াই এবার পৌঁছাল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) দোরগোড়ায়। কালীঘাটের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির নাকি দলত্যাগী বিধায়কদের নিয়ে তৈরি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির— ঠিক কারা আসল ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং কারা দলীয় প্রতীক ‘জোড়াফুল’-এর প্রকৃত দাবিদার, তা নিয়ে দেশজুড়ে জল্পনা তুঙ্গে। এই চরম রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই এবার মুখ খুললেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার। একই সঙ্গে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট জ্যাম ও কারচুপির বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা যাবতীয় অভিযোগকে সপাটে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার দিল্লির ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ (IIIDEM)-এ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি মেগা সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। দেশের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সেখানে সরাসরি প্রশ্ন ওঠে বাংলার দলবদল ও দলের প্রতীকী লড়াই নিয়ে।
“কে আসল তৃণমূল জানি না”: আইনি লড়াইয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান কমিশনের
তৃণমূলের অন্দরের এই ক্ষমতার যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে সরাসরি বিতর্ক এড়িয়ে যান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তবে তিনি কমিশনের নিরপেক্ষতার বার্তা স্পষ্ট করে দেন।
কমিশনের অবস্থান নিয়ে তাঁর বক্তব্য:
-
সংবিধানই শেষ কথা: জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানান, “আমি জানি না কারা আসল তৃণমূল আর কারাই বা ভুয়ো তৃণমূল। কমিশন কোনও রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখে কাজ করে না। আমাদের সামনে যে সমস্ত আইনি নথি ও আবেদন জমা পড়েছে, তা সম্পূর্ণ ভারতীয় সংবিধান এবং নির্দিষ্ট নির্বাচনী আইন মেনেই পর্যালোচনা করবে কমিশন।”
-
প্রতীক নিয়ে কৌতূহল: দুই শিবিরের দায়ের করা পিটিশন নিয়ে কমিশন যে তাড়াহুড়ো না করে সমস্ত প্রোটোকল মেনে এগোবে, ওনার এই মন্তব্যে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।
“৯৩.৭% ভোটদানই প্রমাণ”— বুথ জ্যামের অভিযোগ খণ্ডন
নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই রাজ্য প্রশাসনের একাংশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিল কালীঘাট। বাংলায় নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভোট গণনায় কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পরিসংখ্যান তুলে ধরে সেই সমস্ত অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন:
“কারা বলছেন বাংলায় বুথ দখল হয়েছে? কোথায় হয়েছে বুথ জ্যাম? যদি নির্বাচনে রিগিং বা বুথ জ্যামের মতো কোনও ঘটনা সত্যিই ঘটত, তবে এ রাজ্যে ৯৩.৭ শতাংশের মতো ঐতিহাসিক ও রেকর্ড ভাঙা ভোটদানের হার কোনওভাবেই সম্ভব হতো না। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে এর আগে এত অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং নজিরবিহীনভাবে বিপুল স্বতঃস্ফূর্ত ভোটদান মানুষ দেখেনি।”
নির্বাচন কমিশনের এই কড়া এবং স্পষ্ট বার্তার পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কালীঘাট যে সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছিল, তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে একপ্রকার খারিজ করে দিল কমিশন। এখন দেখার, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের এজলাসে ‘আসল তৃণমূল’ চেনার আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের পাল্লা ভারী হয়।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







