best news portal development company in india

শোকে স্তব্ধ সংগীত দুনিয়া – থেমে গেলো সুরের ঝঙ্কার 

SHARE:

৯২ বছর বয়সে আমাদের সকলকে ছেড়ে চলে গেলেন সংগীত জগতের অন্যতম সম্রাজ্ঞী আশা ভোসলে। রবিবার মুম্বইয়ে ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন (Asha Bhosle Death) তিনি। শিল্পীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর পুত্র আনন্দ ভোঁসলে। হাসপাতালের বাইরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, সোমবার সকাল ১১টা থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ থাকবে এবং বিকেল ৪টায় শিবাজি পার্কে সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য। ১১ এপ্রিল শারীরিক দুর্বলতা ও বুকে সংক্রমণের কারণে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল তাঁকে। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শেষ হল আট দশকেরও বেশি সময় জুড়ে বিস্তৃত এক অসাধারণ সঙ্গীতযাত্রা। মাত্র ১০ বছর বয়সে গানের জগতে প্রবেশ করেন তিনি। ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি ‘মাঝা বাল’-এ “চলা চলা নও বালা” গান দিয়ে শুরু, আর ১৯৪৮ সালে হিন্দি ছবি ‘চুনারিয়া’-তে “সাওয়ান আয়্যা” গান দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ।

 

১৯৫৭ সালের ‘নয়া দৌর’ ছবির “মাংগ কে সাথ তুমহারা” ও “উড়েন যখন যখন জুলফে তেরি” গান তাঁকে এনে দেয় বিপুল জনপ্রিয়তা। সেই সময় লতা মঙ্গেশকর, শামশাদ বেগম এবং গীতা দত্তের মতো দাপুটে শিল্পীদের মধ্যেও নিজস্ব জায়গা তৈরি করেন তিনি। নিজস্ব স্বতন্ত্র স্টাইল গড়ে তুলতে তিনি বেছে নেন ক্যাবারে ও পাশ্চাত্য ঘরানার গান। স্বামী রাহুল দেব বর্মণের সুরে ‘তিসরি মঞ্জিল’ (১৯৬৬)-এর “আজা আজা” ও “ও হাসিনা জুলফোঁ ওয়ালি” আজও সমান জনপ্রিয়। নৃত্যশিল্পী হেলেন-এর পর্দার কণ্ঠ হিসেবেও তিনি হয়ে ওঠেন আইকনিক—“পিয়া তু আব তো আজা” (কারাভান, ১৯৭১) ও “ইয়ে মেরা দিল” (ডন, ১৯৭৮) তার উজ্জ্বল উদাহরণ। গজল গায়িকা হিসেবেও তাঁর সাফল্য ছিল অনন্য। ‘উমরাও জান’ (১৯৮১)-এর “দিল চিজ ক্যা হ্যায়” ও “ইন আঁখোঁ কি মস্তি কে” গান তাঁকে এনে দেয় প্রথম জাতীয় পুরস্কার। পরে ‘ইজাজত’ (১৯৮৭)-এর “মেরা কিছু সামান” গানেও পান জাতীয় সম্মান। চলচ্চিত্রের বাইরেও স্বাধীন সঙ্গীত ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় ছিলেন সমান সক্রিয়। গুলজার ও রাহুল দেব বর্মনের সঙ্গে ‘দিল পড়োসি হ্যায়’, লেসলি লুইস-এর সঙ্গে ‘জানম সমঝা করো’, আদনান সামি-র সঙ্গে একাধিক কাজ উল্লেখযোগ্য। উস্তাদ আলি আকবর খান-এর সঙ্গে ‘লিগ্যাসি’ অ্যালবামের জন্য তিনি গ্র্যামি পুরস্কার পান এবং ‘ইউ’ভ স্টোলেন মাই হার্ট’ অ্যালবামের জন্য মনোনয়নও পান। মারাঠি, বাংলা, তামিল, তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম, পাঞ্জাবি-সহ একাধিক ভাষায় গান গেয়ে তিনি গড়েছেন অনন্য নজির। বিপুল সংখ্যক রেকর্ডিংয়ের জন্য তাঁর নাম ওঠে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে।

অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার ও পদ্ম বিভূষণ সম্মান। আশা ভোঁসলের প্রয়াণে সঙ্গীত জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *