রাজনৈতিক মহলে ফের আলোচনার কেন্দ্রে আইপ্যাক মামলা। ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, বৃহস্পতিবার তার শুনানি শেষ হয়েছে। বিচারপতি প্রশান্ত মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ রায়দান স্থগিত রেখেছে। ফলে এখন নজর আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশের দিকে।
এই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কপিল সিব্বল যুক্তি দিয়েছেন, মমতা যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বর্তমানে সরকার পরিবর্তনের পর সেই পরিস্থিতি আর নেই। রাজ্য সরকার চাইলে নিজেই সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তাই এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, ইডির আইনজীবী এস ভি রাজু পাল্টা যুক্তি দেন, মামলায় শুধু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নন, একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের অনেকেই এখনও কর্মরত। ফলে বর্তমান রাজ্য সরকারের পক্ষে নিজের অধীনস্থ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৮ জানুয়ারি। বেআইনি কয়লা পাচার ও আর্থিক তছরুপের তদন্তে কলকাতায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও অফিসে তল্লাশি চালায় ইডি। সেই সময় সেখানে পৌঁছেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তে বাধা দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করেই আইনি লড়াই শুরু হয়।
এখন প্রশ্ন, সুপ্রিম কোর্ট কি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেবে, নাকি রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের উপর বিষয়টি ছেড়ে দেবে? রায় ঘোষণার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে এই মামলার রায় শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনি অবস্থান নয়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ও রাজ্য প্রশাসনের ক্ষমতার সীমা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







