একদিকে একমাত্র সন্তানকে হারানোর অসহনীয় যন্ত্রণা, অন্যদিকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির প্রত্যাশা—গাইঘাটার নাবালিকা নির্যাতন ও মৃত্যুর ঘটনায় এমনই প্রতিক্রিয়া নির্যাতিতার মা-বাবার। পুলিশের এনকাউন্টারের ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন তাঁরা। নির্যাতিতার মায়ের কথায়, মেয়েকে আর কোনওদিন ফিরে পাবেন না। তবে যেভাবে তাঁদের কোল শূন্য হয়েছে, অভিযুক্তের পরিবারও যেন সেই যন্ত্রণা অনুভব করে—এমনটাই চেয়েছিলেন তিনি। পুলিশের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতার বাবাও। তাঁর কথায়, “যা হয়েছে, ভালো হয়েছে।”
নির্যাতিতার মা জানান, অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস তাঁদের পরিচিত ছিল। আত্মীয়তার সূত্রে পরিবারের অনুষ্ঠানে তার যাতায়াতও ছিল। সেলুনে কাজ করত প্রহ্লাদ। মেয়েকে অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও পড়াশোনায় মনোযোগী বলে বর্ণনা করেছেন তিনি। পরিচিত একজন কীভাবে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, তা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না তাঁরা। আগে থেকে কোনও সন্দেহও হয়নি বলে দাবি পরিবারের।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে নির্যাতিতার মা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় মেয়েকে নিয়ে স্থানীয় একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন তিনি। পরে মেয়ে বান্ধবীদের সঙ্গে মেলায় ঘুরতে যায়। রাত আটটা থেকে সাড়ে আটটার পর তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে বারবার সমস্যার মুখে পড়েন। কখনও ফোন ব্যস্ত, কখনও নেটওয়ার্কের বাইরে—এমন বার্তা পান তিনি। পরদিন সকালে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশের দাবি, রবিবার সকালে গাইঘাটা থানা এলাকার একটি বাড়ির পিছন থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। ওই রাতেই প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তকে ঘিরে এনকাউন্টারের ঘটনা সামনে আসে, যা নিয়ে নির্যাতিতার পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
তবে এই ঘটনাকে ঘিরে শোক ও ক্ষোভের পাশাপাশি আইনের শাসন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অপরাধের অভিযোগ যত গুরুতরই হোক, পুলিশের পদক্ষেপ এবং এনকাউন্টারের বৈধতা বিচারাধীন তথ্যের ভিত্তিতে আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়া জরুরি। নির্যাতিতার পরিবারের যন্ত্রণা গভীর; একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







