best news portal development company in india

“বিধানসভায় নতুন ইতিহাস তৈরি করলেন মুখ্যমন্ত্রী!” বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর দরাজ প্রশংসা ফিরহাদ হাকিমের

SHARE:

কলকাতা, ২১ জুলাই ২০২৬: রাজ্য বিধানসভার রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক দৃশ্য! সোমবার অধিবেশন চলাকালীন বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে রাজ্যের নবাগত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বিরোধীদের বর্ষীয়ান নেতা তথা ‘ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল’-এর রাজ্য সহ-সভাপতি ফিরহাদ হাকিম। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সাধারণ বিধায়কদের গণদাবি ও এলাকার সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করেছেন, তাকে “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ” বলে বর্ণনা করেছেন ফিরহাদ। বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েট নেতার মুখ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই অনাবিল প্রশংসা শুনে কিছুক্ষণের জন্য নাগরিক মহল ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে শোরগোল পড়ে যায়।

কী এমন নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী?

সোমবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের ‘উল্লেখ পর্ব’ (Mention Hour) শুরু হওয়ার ঠিক আগেই ফ্লোরে উঠে দাঁড়ান মুখ্যমন্ত্রী। স্বাভাবিকভাবে এই পর্বে বিভিন্ন দল ও অঞ্চলের বিধায়করা তাঁদের নিজ নিজ কেন্দ্র ও এলাকার নানাবিধ জ্বলন্ত সমস্যার কথা তুলে ধরে থাকেন।

মন্ত্রিসভা ও আমলাদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশাবলী:

  • ৭ দিনের মধ্যে জবাব বাধ্যতামূলক: উল্লেখ পর্বে কোনো বিধায়ক সমস্যা তুললে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীকে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে নিজের স্বাক্ষরিত লিখিত জবাবে গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানাতে হবে।

  • অপারগতার কারণ ব্যাখ্যা: যদি কোনো কাজ এখনই করা সম্ভব না হয়, তবে কেন করা যাচ্ছে না বা কতদিন সময় লাগবে, তার স্পষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা বিধায়ককে পাঠাতে হবে।

  • CMO থেকে ট্র্যাকিং: গোটা প্রক্রিয়াটি কেবল কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে নাকি বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা দেখার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (CMO) থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হবে। প্রতি ৩ মাস অন্তর একটি সমন্বিত ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ (Compliance Report) পেশ করা হবে।

“১৫ বছর বিরোধী রাজনীতিতেও এমন সম্মান দেখিনি”: ফিরহাদের ঐতিহাসিক মন্তব্য

মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রশাসনিক নির্দেশিকার পরপরই নিজের আসনে উঠে দাঁড়িয়ে তাঁকে সাধুবাদ জানান ঋতব্রত পন্থী তৃণমূলের সহ-সভাপতি ফিরহাদ হাকিম।

ফিরহাদের বক্তব্যের প্রধান অংশ:

“মুখ্যমন্ত্রী আজ বিধানসভার অন্দরে এক সম্পূর্ণ নতুন ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। বিধানসভার দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে এরকম সিদ্ধান্ত কখনও নেওয়া হয়নি। আমি কেবল সাম্প্রতিক ১৫ বছরই নয়, তার আগেও দীর্ঘদিন বিরোধী পক্ষের বিধায়ক হিসেবে এই হাউসে থেকেছি। বিধায়কদের কথাকে এতখানি সম্মান দেওয়া এবং তাঁদের উত্থাপিত দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার নজির অতীতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কখনও তৈরি হয়নি। এটি যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে রাজ্য সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস লিখিত হবে।”

একসময় রাজপথে লড়াই চালানো ফিরহাদ হাকিম যেভাবে শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসন ও ‘পিপল-ফার্স্ট’ অ্যাপ্রোচকে স্বাগত জানিয়েছেন, তাতে বিধানসভার অলিন্দে সংসদীয় সৌজন্য ও গঠনমূলক রাজনীতির এক নতুন বাতাবরণ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *