নিউ ইয়র্ক/নিউ জার্সি, ২০ জুলাই ২০২৬: ১৬ বছরে বদলে গিয়েছে বিশ্বের কত হিসাব-নিকাশ! ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার সেই ঐতিহাসিক ভলিতে শেষবার যখন স্প্যানিশরা বিশ্বসেরা হয়েছিল, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে বারাক ওবামা, বর্তমান উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল তখনও কিন্ডারগার্টেনের গণ্ডি পেরোননি, আর ফোর-জি কিংবা অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপ ছিল কল্পবিজ্ঞানের গল্প। কিন্তু ১৬ বছর পর সেই ইতিহাস যেন পুনরাবৃত্ত হলো নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে! ২০১০-এর ইনিয়েস্তার সেই জাদুকরী মুহূর্তের সঙ্গে মিশে গেলেন ২০২৬-এর ফেরান তোরেস। তাঁরই করা একমাত্র উইনিং গোলেই আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ১৬ বছর পর পুনরায় বিশ্বকাপ জয় করল স্প্যানিশ ‘তিকিতাকা’ আর্মি।
অন্যদিকে, বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়নদের মতো ফুটবল উপহার দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। দীর্ঘ ১২০ মিনিটের মহানাটকীয় লড়াই শেষে শিরোপা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়ে কান্নাভেজা চোখে মাঠ ছাড়তে হলো আলবিসেলেস্তেদের।
প্রথমার্ধেই বিপদের সঙ্কেত: তিকিতাকার ফাঁদে দিশেহারা আর্জেন্টিনা
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে কার্যত ব্যাকফুটে চলে যায় আর্জেন্টিনা। ইয়ামাল, মার্ক কুকুরেয়া ও দানি অলমোর গতির সামনে বলের নাগাল না পেয়ে বারবার ফাউল করতে বাধ্য হচ্ছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টাররা।
ম্যাচের প্রথমার্ধের প্রধান ঘটনাপ্রবাহ:
-
লিসান্দ্রো মার্টিনেজের চোট: প্রথমার্ধের ৪১ মিনিটে স্প্যানিশ উইঙ্গারদের সামলাতে গিয়ে মারাত্মক চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ওঁর জায়গায় নিকোলাস ওটামেন্ডিকে নামাতে বাধ্য হন কোচ লিওনেল স্কালোনি, যা আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে আরও নড়বড়ে করে দেয়।
-
‘ডিফেন্সিভ’ আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনা বলের দখল বজায় রাখা বা আক্রমণ তৈরির বদলে স্রেফ স্পেনকে আটকানোর জন্য রক্ষণাত্মক খোলসে ঢুকে পড়ে।
এমিলিয়ানো মার্টিনেজের পরাক্রম ও এনজোর লাল কার্ড
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্রনাট্য বজায় ছিল। ৬৪ মিনিটে দানি অলমোর একটি বিষাক্ত শট দারুণভাবে আটকে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন ‘দিবু’ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তিনি অন্তত ৩টি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নস্যাৎ না করলে আরও বড় লজ্জার মুখে পড়তে হতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
দ্বিতীয়ার্ধের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত:
-
এনজোর লাল কার্ড: স্পেনের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে ৯০ মিনিটে দ্বিতীয়বার ফাউল করে বসেন এনজো ফার্নান্দেজ। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে তিনি মাঠ ছাড়লে নির্ধারিত সময় এবং অতিরিক্ত সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
-
অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয়তা: ৯০ মিনিটের খেলা ০-০ গোলে শেষ হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় এক্সট্রা টাইমে। ৯৬ মিনিটে স্পেনের নিকো উইলিয়ামস বল জালে জড়িয়ে দিলেও ফাউলের কারণে ভিএআর (VAR) সেই গোল বাতিল করে।
১০৬ মিনিটে তোরেসের ম্যাজিক: বার্সেলোনার দুই প্রজন্মের অদ্ভুত সমাপতন!
অবশেষে স্প্যানিশদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের সূচণা লগ্নে (১০৬ মিনিটে)। ডানপ্রান্ত থেকে পেদ্রো পোরোর বাড়ানো বাড়ানো নিখুঁত পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে বার্সেলোনার তারকা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস একটি অসাধারণ জোরালো শট নেন। আর্জেন্টিনার তিনজন ডিফেন্ডার ও গোলকিপার এমিলিয়ানোকে হতবাক করে দিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে (১-০)।
যে বার্সেলোনা লিওনেল মেসির জীবনের ঠিকানা, সেই বার্সারই ঘরের ছেলে ফেরান তোরেস আজ মেসির বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্ন চুরমার করে দিলেন— ফুটবল দেবতার কী অদ্ভুত সমাপতন!
১১০ মিনিটের পর মরিয়া চেষ্টা, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি!
গোল খাওয়ার পর, ম্যাচের ১১০ মিনিটের মাথায় গিয়ে অবশেষে প্রথম আক্রমণের মুখ খোলে ১০ জনের আর্জেন্টিনা। কিন্তু ততক্ষণে স্প্যানিশ রক্ষণ নিজেদের দুর্ভেদ্য প্রাচীর বানিয়ে ফেলেছিল। শেষ মুহূর্তে একটিমাত্র সুযোগ তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি স্কালোনির ছেলেরা। শেষ বাঁশি বাজতেই ১-০ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতে ওঠে স্পেন।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







