কলকাতা, ১৮ জুলাই ২০২৬: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ঐতিহাসিক ভাঙন শুরু হয়েছে, তা এখন টালিপাড়া তথা টলিউডকেও গ্রাস করেছে। গত বৃহস্পতিবারই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন বিশিষ্ট তারকা কোয়েল মল্লিক। ইস্তফা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন দিল্লির সংসদ ভবনে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী তথা বিজেপির শীর্ষ সাংগঠনিক নেতা ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বৈঠক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জন্ম দিয়েছে। তবে কি সুখেন্দুশেখর রায়দের পথ অনুসরণ করে এবার পদ্মশিবিরে যোগ দিয়ে আবারও রাজ্যসভায় যাচ্ছেন কোয়েল? এই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে।
শুক্রবার সল্টলেকের বিজেপির রাজ্য দপ্তরে এই বহুল চর্চিত দলবদল নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। আর সেখানেই এই জল্পনা উস্কে দিয়ে এক অত্যন্ত চমকপ্রদ ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন তিনি।
“চর্চা চলছে, চলুক না”— জল্পনা জিইয়ে রাখলেন শমীক
কোয়েল মল্লিকের বিজেপিতে যোগ দেওয়া এবং বিজেপির টিকিটে ফের রাজ্যসভায় যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই হাসিমুখে জবাব দেন শমীক ভট্টাচার্য।
তৃণমূলের তারকা সাংসদের ইস্তফা নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতির বক্তব্য:
“রাজনীতিতে কোয়েল-দোয়েল-পায়েল— কেউ কোনও বড় বিষয় নয়। সংবাদমাধ্যমে এই বিষয়গুলি নিয়ে নানারকম জল্পনা ও চর্চা চলছে, তা চলুক না! আমরা তো কাউকে চর্চা করতে বারণ করছি না। সময় এলেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীকবাবু সরাসরি কোয়েলের বিজেপিতে যোগদানের খবর স্বীকার না করলেও, ওঁর এই মন্তব্য ও রহস্যময় হাসি আসলে জল্পনাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিল।
সুখেন্দুশেখরদের পথেই কোয়েল? বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৩ আসনে জয় বিজেপির
নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর জুনের প্রথম দিকেই দলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন বর্ষীয়ান সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। এর সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই তাঁরা সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্মপতাকা হাতে তুলে নেন।
রাজ্যসভার সমীকরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি:
-
রাতারাতি টিকিট ও জয়: বিজেপি এই তিন প্রবীণ নেতাকে তৎক্ষণাৎ রাজ্যসভার উপ-নির্বাচনে প্রার্থী করে।
-
স্পিকারের শংসাপত্র: বিধানসভায় বর্তমান সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই তিন আসনে পাল্টা প্রার্থী দেওয়ার কোনও সুযোগই ছিল না। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফের সংসদের উচ্চকক্ষে (Rajya Sabha) প্রবেশ করলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। গতকাল, শুক্রবারই বিধানসভার স্পিকার তাঁদের হাতে বিজয়ী শংসাপত্র (Certificate) তুলে দিয়েছেন।
কোয়েলের ইস্তফা ও বিজেপির পরবর্তী চাল
ঠিক একই ফর্মুলায় এবার রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করলেন কোয়েল মল্লিক। মাত্র ২ মাস ১০ দিনের মাথায় সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে স্বামী নিসপাল সিং রানেকে সঙ্গে নিয়ে ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে তাঁর দেখা করাটা নিছক সৌজন্যমূলক নয় বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
ধারণা করা হচ্ছে, সুখেন্দুশেখরদের খালি করে দেওয়া আসনের মতোই কোয়েল মল্লিকের এই শূন্য আসনেও উপ-নির্বাচনে বিজেপি তাঁকেই প্রার্থী করে সংসদের উচ্চকক্ষে ফেরত পাঠাতে পারে। ২১ জুলাইয়ের মেগা সমাবেশের ঠিক মুখে টলিপাড়ার এই প্রথম সারির অভিনেত্রীর দলবদল ঘাসফুল শিবিরের জন্য যে আরও একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা, তা বলাই বাহুল্য।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







