বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান মেরুকরণ অত্যন্ত স্পষ্ট—একদিকে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অন্যদিকে রাশিয়া ও চিন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আসন্ন ভারত সফর আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ক্রেমলিন নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে (৫-৬ অক্টোবর) দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ১৮তম ব্রিকস (BRICS) সম্মেলনে যোগ দিতে পুতিন ভারতে আসছেন। এক বছরের মধ্যে এটি তাঁর দ্বিতীয় ভারত সফর হতে চলেছে।
ট্রাম্পের অবস্থান ও ব্রিকস নিয়ে আপত্তি:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ব্রিকস গোষ্ঠীর প্রসারের বিরোধী। তাঁর আপত্তির প্রধান কারণগুলি হলো:
-
ডলারের আধিপত্য রক্ষা: ট্রাম্পের দাবি, ব্রিকস দেশগুলি ডলারের বিকল্প কোনো মুদ্রা (De-dollarization) চালু করার চেষ্টা করছে, যা মার্কিন অর্থনীতির জন্য হুমকিস্বরূপ। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যে দেশ ডলারের বিকল্প তৈরির চেষ্টা করবে, তাদের ওপর ১০০ শতাংশ ট্যারিফ বা শুল্ক আরোপ করা হবে।
-
ডিজিটাল মুদ্রা: ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকায় তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো ডিজিটাল মুদ্রা তৈরি হতে দেবেন না এবং ডলারের বৈশ্বিক মর্যাদা রক্ষায় তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
-
ভারত-রাশিয়া ঘনিষ্ঠতা: পুতিনের এই সফরকে ট্রাম্প প্রশাসন খুব একটা ভালো চোখে দেখছে না। গত বছরও ভারতের রুশ তেল কেনা নিয়ে ট্রাম্প ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়েছিলেন। তবে বর্তমান ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে আমেরিকা ভারতকে সাময়িকভাবে রুশ তেল কেনার বিশেষ ছাড় (Waiver) দিতে বাধ্য হয়েছে।
রুশ তেলের নৌবহর ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা:
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় রাশিয়া ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের জলসীমার কাছে প্রায় ৯৫ লক্ষ ব্যারেল তেল নিয়ে রুশ পণ্যবাহী জাহাজের একটি নৌবহর অবস্থান করছে। রাশিয়া ভারতকে আশ্বাস দিয়েছে যে, যেকোনো সংকটে তারা জ্বালানি চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত। মার্চ মাসেই ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।
উপসংহার:
পুতিনের এই সফর ভারতের জন্য যেমন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ভারত একদিকে যেমন রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখছে, অন্যদিকে আমেরিকার সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ব্রিকস সম্মেলনে ডলারের বিকল্প মুদ্রা নিয়ে কোনো বড় ঘোষণা আসে কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে ওয়াশিংটন।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519






