ছয় সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ যুদ্ধের পর ইরান তাদের মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আমেরিকার হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই সম্ভাব্য চুক্তিকে একটি ‘বিরাট অগ্রগতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ট্রাম্পের এই দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে গভীর সংশয়।
ট্রাম্পের দাবি ও চুক্তির সম্ভাবনা:
-
‘পারমাণবিক ধূলিকণা’ হস্তান্তর: ট্রাম্প ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বা পারমাণবিক ধূলিকণা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, চার সপ্তাহের টানা বোমাবর্ষণ এবং কঠোর অবস্থানের ফলেই তেহরান নমনীয় হয়েছে এবং এই ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে।
-
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ: আগামী সপ্তাহে ট্রাম্পের ঘোষণা করা দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। ট্রাম্পের মতে, এই সময়ের মধ্যেই একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার ‘খুব ভালো সুযোগ’ রয়েছে।
-
সম্পর্কের ভোলবদল: ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন যে বর্তমানে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ‘ভাবনার অতীত ভালো’। তিনি মনে করেন, তেহরান এখন এমন সব শর্ত মানতে ইচ্ছুক যা তারা দুই মাস আগেও প্রত্যাখ্যান করেছিল।
কেন কাটছে না সংশয়?
ট্রাম্প আশাবাদী হলেও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বেশ কিছু কারণে এই দাবি নিয়ে সন্দিহান:
-
তেহরানের নীরবতা: আমেরিকার হাতে ইউরেনিয়াম তুলে দেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে ইরান এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। উল্টে ইরানের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সীমানায় সার্বভৌমত্ব এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে অনড় থাকার ইঙ্গিত মিলেছে।
-
ইসরায়েল-লেবানন পরিস্থিতি: একই সময়ে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেখানে গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হেজবোল্লা এই আলোচনাকে ‘নতিস্বীকার’ বলে নিন্দা করেছে, যা ইরানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
-
মার্কিন হুমকি: হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে যেমন শান্তির কথা বলা হচ্ছে, তেমনই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সতর্ক করেছেন যে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের বন্দরে ব্লকেড এবং পরিকাঠামোতে আরও ভয়াবহ বোমাবর্ষণ করা হবে।
প্রেক্ষাপট:
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানের সুপ্রিম লিডারসহ একাধিক শীর্ষ নেতার মৃত্যু এবং বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষতির পর পাকিস্তান এই সংকটে মধ্যস্থতা করছে। ট্রাম্পের দাবি সত্যি হলে এটি তাঁর বিদেশের মাটিতে সবথেকে বড় কূটনৈতিক জয় হবে, কিন্তু ইরান শেষ পর্যন্ত তাদের পরমাণু সম্পদ হস্তান্তর করবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ থেকেই যাচ্ছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519






