সংসদে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে মহিলা সংরক্ষণ বিল। ২০২৩ সালে পাশ হওয়া এই আইনটি নিয়ে শুক্রবার এক নজিরবিহীন উত্তাপ দেখা গেল লোকসভায়। মোদী সরকার একাদশ ও দ্বাদশ (২০২৬) পর্যায়ের সংশোধনী এনে বিলটিকে দ্রুত কার্যকর করার পথে হাঁটা শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাক্রম ও মূল বির্তক:
-
তৎক্ষণাৎ কার্যকর: কেন্দ্রীয় সরকার গতকালই (১৬ এপ্রিল, ২০২৬) এক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ২০২৩ সালের মহিলা সংরক্ষণ আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করেছে। তবে বিরোধীদের দাবি, বর্তমান বিধানসভা বা লোকসভা ভোটে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
-
২০১১-র জনগণনা ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ: সরকারের প্রস্তাবিত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (২০২৬) অনুযায়ী, ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনের আগেই আসন পুনর্বিন্যাস বা সীমানা নির্ধারণ (Delimitation) করতে চায় কেন্দ্র। এক্ষেত্রে নতুন কোনো জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই আসন সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
-
আসন সংখ্যা বৃদ্ধি: নতুন আইন অনুযায়ী, লোকসভার মোট আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১৬ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হবে প্রায় ২৭৩টি আসন।
বিরোধীদের আপত্তি কেন?
কংগ্রেস ও তৃণমূলসহ বিরোধী দলগুলোর আপত্তির প্রধান জায়গা হলো ‘ডিলিমিটেশন’ বা আসন পুনর্বিন্যাস। তাদের অভিযোগ:
১. সরকার জনগণনা ছাড়াই নিজেদের মর্জিমতো সীমানা নির্ধারণ করতে চাইছে।
২. দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর জনসংখ্যা উত্তর ভারতের চেয়ে কম বৃদ্ধি পাওয়ায়, আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে দক্ষিণের রাজ্যগুলো সংসদে গুরুত্ব হারাতে পারে।
৩. তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মতে, এটি সরকারের একটি রাজনৈতিক ‘চাল’ বা জুমলা, যার মাধ্যমে ২০২৯-এর আগে ভোটের সমীকরণ নিজেদের অনুকূলে করতে চাইছে বিজেপি।
শুক্রবার বিকেলে এই বিলটি নিয়ে চূড়ান্ত ভোটাভুটি হওয়ার কথা। এই বিল পাশ হলে ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি বড় মোড় ঘুরতে পারে।
সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে পশ্চিমবঙ্গ বা দক্ষিণ ভারতের আসন সংখ্যায় কী বদল আসতে পারে, তা নিয়ে কি আপনি বিশদে জানতে চান?
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







