ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘সংবিধান (১৩১তম সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পেশ করতে চলেছে মোদী সরকার। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৮৫০ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের যুক্তি, সাংসদদের কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার স্বার্থেই এই আসন বৃদ্ধি ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) জরুরি। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল আয়োজিত তিন দিনের এক বিশেষ অধিবেশনে এই বিলটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
তবে কেন্দ্রের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’কে ঘিরেই জাতীয় রাজনীতিতে প্রবল সংঘাতের আবহ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর মূল আপত্তির জায়গা হলো ডিলিমিটেশনের ভিত্তি এবং এর সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), ডিএমকে (DMK) এবং আপ (AAP)-এর মতো দলগুলো এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। বিরোধীদের আপত্তির প্রধান কারণগুলো হলো:
-
২০১১ সালের জনগণনার ব্যবহার: কেন্দ্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০১১ সালের পুরনো জনগণনার ভিত্তিতেই এই সীমানা নির্ধারণ করা হবে। বিরোধীদের দাবি, এতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সফল দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো প্রতিনিধিত্বের দিক থেকে পিছিয়ে পড়বে এবং উত্তর ভারতের জনবহুল রাজ্যগুলোর আধিপত্য বাড়বে। তাঁরা ২০২১ সালের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রক্রিয়া করার দাবি তুলেছেন।
-
যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর আঘাত: তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং পি চিদম্বরমের মতো নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, মহিলা সংরক্ষণ আসলে একটি ‘মরীচিকা’। বিজেপির আসল লক্ষ্য হলো ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা এবং রাজ্যগুলোর ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করা।
-
কোটার দাবি: সমাজবাদী পার্টি ও আরজেডি-র মতো দলগুলো মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনেও ওবিসি (OBC) বা অনগ্রসর শ্রেণির জন্য আলাদা কোটার দাবি তুলেছে।
এই সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে রণকৌশল ঠিক করতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের শরিক দলগুলো বৈঠকে বসছে। যেহেতু সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, তাই বিরোধী দলগুলোর সমর্থন ছাড়া এই বিল পাস করা সরকারের পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী কয়েক দিন সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকার এবং বিরোধী পক্ষের এই লড়াই ভারতের ভবিষ্যৎ রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







