best news portal development company in india

মধ্যপ্রাচ্য সংকট: পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি কি ফিরবে? ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক বৈঠকের প্রস্তুতি

SHARE:

মধ্যপ্রাচ্যের ঘনীভূত যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তান এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দু। ইরান ও আমেরিকার মধ্যে দু’সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও লেবাননে ইজরায়েলি হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে পাকিস্তানের সাহায্য চেয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার রাতেই ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

ইসলামাবাদ বৈঠকের মূল প্রেক্ষাপট

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের সক্রিয় হস্তক্ষেপে এই আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে। আলোচনার প্রধান দিকগুলো হলো:

  • ১০ দফার শান্তি প্রস্তাব: ইরান ১০টি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ সচল করার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

  • আমেরিকার উপস্থিতি: ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জেয়ার্ড কুশনার ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। শনিবার সকাল থেকে সরাসরি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

  • লেবানন কাঁটা: ইজরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে এই যুদ্ধবিরতি কেবল ইরানের জন্য, লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চলবেই। অন্যদিকে পাকিস্তান ও ইরান দাবি তুলেছে, শান্তি ফিরলে তা সব প্রান্তেই ফিরতে হবে।

আন্তর্জাতিক মহলের দৌত্য ও প্রতিবন্ধকতা

শান্তি ফেরানোর এই প্রক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যান্য শক্তিগুলোও তৎপর:

  • ব্রিটেনের সক্রিয়তা: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে রয়েছেন। তিনি সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমানের সঙ্গেও কথা বলেছেন যাতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা যায়।

  • ইজরায়েলের অনড় অবস্থান: ইজরায়েল সরাসরি পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, পাকিস্তান নিরপেক্ষ নয়। এমনকি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

সাফল্যের সম্ভাবনা কতটা?

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা সফল হওয়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। কারণ:

  1. অর্থনৈতিক চাপ: যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় $৯৬ ডলারে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি ভেঙে পড়ার ভয় রয়েছে, যা সব পক্ষকেই পিছু হঠতে বাধ্য করতে পারে।

  2. সরাসরি কথা: দীর্ঘ সময় পর আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিরা একই ছাদের নিচে বসছেন, যা কূটনীতির ভাষায় একটি বড় জয়।

তবে ইজরায়েল যদি লেবাননে হামলা জারি রাখে, তবে ইরানও হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রেখেছে। ফলে মঙ্গলবারের মধ্যে কোনো ठोस সিদ্ধান্ত না এলে মধ্যপ্রাচ্য আবার রণক্ষেত্রে পরিণত হতে পারে।

Supravat Bangla
Author: Supravat Bangla

PRGI Approved - WBBEN/25/A1519

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *