ইরানে হামলার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত বুমেরাং হয়েছে! এমনটাই স্বীকার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেয়েছে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি। সেনেট এবং হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ—দুই কক্ষেই দলের বিপর্যয় ঘটেছে। এই হারের জন্য ট্রাম্প থেকে শুরু করে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, সকলেই ইরান যুদ্ধকে দায়ী করছেন।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি
বুধবার নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে। তাঁকে নির্বাচনে হারের কারণ জিজ্ঞাসা করা হয়। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় অনেকগুলো কারণ ছিল। ইরান যুদ্ধ অবশ্যই একটা কারণ। তাছাড়া তেল এবং গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টা আমজনতা ভালোভাবে নেয়নি। তবে আমার মুখটা তো ব্যালটে ছিল না, তাই মানুষ ভোট দেয়নি।”
তবে এই হার নিয়ে তিনি বিশেষ চিন্তিত নন বলেও জানিয়েছেন। রাতারাতি প্রশাসনে কোনও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনাও তাঁর নেই বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধকে দায়ী করলেন জেডি ভ্যান্সও
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও নির্বাচনে হারের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ বার্তা দিয়ে তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের কারণেই রিপাবলিকানদের এই পরাজয় হয়েছে।
পাশাপাশি, দেশে মূল্যবৃদ্ধির সমস্যা এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কার্যকারিতা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ইজরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার সুসম্পর্কও ভোটাররা ভালোভাবে নেননি বলে তাঁর বক্তব্য।
ভ্যান্সের মতে, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের কাছে বড় বোঝা হয়ে উঠেছে। ফলে ২০২৪ সালে ট্রাম্প ও ভ্যান্সকে সমর্থন করা অনেক ভোটার এবার ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকেছেন।
ইরান যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক চাপ
এই পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচনের ফলের পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যেও সেই যুদ্ধের প্রভাব স্পষ্ট। তবে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যে সংঘাতের সূচনা, তা থামানোর উদ্যোগ কেন সফল হল না?
সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হয়ে উঠেছে।

Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







