তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে বর্তমানে ২৭ জন বিধায়ক রয়েছেন বলে দাবি করলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তাঁর এই দাবি ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির অবশ্য এই সংখ্যাকে মানতে নারাজ। তাদের পাল্টা দাবি, মমতা শিবিরে বিধায়কের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও তা কোনওভাবেই ২৭-এ পৌঁছয়নি।
শোভনদেবের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ঋতব্রত শিবির ছেড়ে একাধিক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, মমতাকে সমর্থন করা বিধায়কদের পরিবারের উপর পুলিশি চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তিনি দাবি করেন, দুই মহিলা বিধায়ক তাঁর কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁদের ছেলেদের থানায় আটকে রেখে ঋতব্রত শিবিরের তালিকায় সই করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। সই না করলে মামলা দেওয়া এবং দীর্ঘদিন জেলে রাখার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সামনে আসেনি।
শোভনদেবের বক্তব্য, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের সময় মমতা শিবিরে মাত্র ১৮ জন বিধায়ক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে একে একে কয়েকজন বিধায়ক শিবির বদল করায় সেই সংখ্যা বেড়ে ২৭ হয়েছে। অন্যদিকে, বিধানসভার ডেপুটি লিডার তথা এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, দু-একজন বিধায়ক বাড়তে পারেন, কিন্তু সংখ্যাটি ২৭ হওয়ার দাবি সঠিক নয়।
এদিকে, হাসনের বিধায়ক কাজল শেখও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলগতভাবে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন, তবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে এখনও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানছেন।
দল ও প্রতীক নিয়ে লড়াই এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনে চূড়ান্ত শুনানির দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই দুই শিবিরের মধ্যে বিরোধ বাড়ছে। এখন দেখার, বিধায়ক সংখ্যার এই বিতর্কে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







