গাইঘাটার পর এবার মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান। পরপর এনকাউন্টারের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ধুলিয়ান বাজারে বিজেপি নেতা সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত সামাউন শেখ পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে খবর। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। তখনই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।
প্রায় দু’মাস আগে ধুলিয়ান বাজার এলাকায় সুজিত মণ্ডলকে খুনের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, খুনের পর তাঁর দেহের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে সামাউন শেখের নাম উঠে আসে। ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে তাঁকে নিয়ে একটি হোটেলের ঘরে পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল পুলিশ। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ঘটনার তদন্তভার সিআইডির হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার ভোরে গাইঘাটায় এক নাবালিকার ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর সামনে আসে। সেখানেও পুলিশের দাবি ছিল, ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেছিলেন।
পরপর দুই ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ও এনকাউন্টারের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অপরাধের অভিযোগ গুরুতর হলেও অভিযুক্তের মৃত্যু কী পরিস্থিতিতে হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তে স্পষ্ট হওয়া জরুরি। বিচারপ্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যু হলে তার বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা এবং জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তাই শুধু পুলিশের দাবি নয়, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত সত্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







