২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে শনিবার বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার বা ‘সংকল্পপত্র’ প্রকাশের পর পাল্টা আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্তেহারে বিজেপি অনুপ্রবেশ রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বললেও, অভিষেক প্রশ্ন তোলেন প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে। তিনি সরাসরি জানতে চান, কোন শিল্পপতির স্বার্থে বা কার নির্দেশে হাসিনাকে দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
অভিষেকের আক্রমণের মূল পয়েন্ট:
-
হাসিনা প্রসঙ্গ: অভিষেক প্রশ্ন তোলেন যে, বিজেপি যখন বাংলায় ‘অনুপ্রবেশ’ নিয়ে সরব, তখন তারা কোন যুক্তিতে শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি ইঙ্গিত করেন যে, এর পিছনে কোনো প্রভাবশালী শিল্পপতির হাত থাকতে পারে।
-
চিন্ময় প্রভু ইস্যু: বাংলাদেশে ইসকন নেতা তথা হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের (চিন্ময় প্রভু) ওপর চলা নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, সেই সময় দিল্লির বিজেপি নেতৃত্ব কেন নীরব ছিল এবং কেন কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেয়নি।
-
গণ-অভ্যুত্থানের হুঁশিয়ারি: বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিজেপি নেতাদের সতর্ক করেন। তাঁর দাবি, এ দেশেও মানুষের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বাংলাদেশের মতোই গণ-অভ্যুত্থান ঘটতে পারে।
বিজেপির সংকল্প বনাম অভিষেকের ‘জুমলা’ তোপ:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ বিজেপির ইস্তেহারে মহিলাদের মাসিক ৩০০০ টাকা ভাতা, ৬ মাসে ইউসিসি (UCC) কার্যকর এবং সপ্তম পে কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। অভিষেক একে ‘নতুন জুমলা’ বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেন যে, এর আগে দিল্লিতেও বিজেপি একই ধরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা রক্ষা করেনি। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি চ্যালেঞ্জ জানান যে, বিজেপি-শাসিত কোনো রাজ্যে এমন সরাসরি আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয় কি না তা স্পষ্ট করতে।
রাজ্যের প্রথম দফার ভোটের মাত্র ১২ দিন আগে বাংলাদেশ ও হিন্দুত্ব ইস্যুকে কেন্দ্র করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







