রানিগঞ্জ:
রানিগঞ্জের শুভদর্শনী হাসপাতাল আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। এ বার অভিযোগ উঠেছে জামুড়িয়ার বেনালী এলাকার ২০ বছর বয়সি এক যুবতীর মৃত্যুকে ঘিরে। মৃতার পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় মারাত্মক অবহেলার অভিযোগ এনে প্রবল বিক্ষোভ দেখায়।
পরিবারের দাবি, জামুড়িয়ার খ্বাজা নগরের বাসিন্দা শেখ মোহিদের মেয়ে সোনারা খাতুন রবিবার সন্ধ্যা ৬টার পর বমি, ডায়রিয়া ও শরীরব্যথার উপসর্গ নিয়ে শুভদর্শনী হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁকে চিকিৎসক ডা. অভিজিৎ ঘোষের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়।
কিন্তু অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার পর থেকে রাত ১১টা নাগাদ সোনারার মৃত্যু পর্যন্ত কোনও চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। পরিবারের বক্তব্য,
“এতেই প্রমাণ হয় হাসপাতাল রোগীর চিকিৎসার বিষয়ে কতটা উদাসীন ছিল।”
এর প্রতিবাদে সোমবার তাঁরা হাসপাতাল চত্বরে তীব্র বিক্ষোভ দেখান এবং হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়েরের কথাও জানিয়েছেন।
—
হাসপাতালের তরফে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান, অভ্যন্তরীণ তদন্তের ঘোষণা
হাসপাতালের মেডিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর দায়িত্বে থাকা ডা. শুভেন্দু সরকার বলেন,
“হাসপাতালের কাছে একজন রোগী অনেকের মধ্যে একজন হলেও, একটি পরিবারের কাছে সে-ই সব। তাই ঘটনাটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং হাসপাতালের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চালানো হবে। এই তদন্তে মৃতার পরিবারকেও যুক্ত করা হবে, যাতে সত্যতা যাচাই করা যায়। যদি পরিবার অভ্যন্তরীণ তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়, তবে বাহ্যিক স্বচ্ছ সংস্থার দ্বারাও তদন্ত করাতে হাসপাতাল রাজি।
—
“রোগী অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় এসেছিলেন”—হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি
হাসপাতালের আরেক আধিকারিক ইন্দ্রজিৎ বসু জানান, পরিবারের অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়।
তিনি বলেন,
“রোগীকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় আনা হয়েছিল। তাঁর হিমোগ্লোবিন মাত্র ১ শতাংশে নেমে গিয়েছিল—এ অবস্থায় রোগীকে বাঁচানো অত্যন্ত কঠিন।”
হাসপাতালের দাবি—
দুইবার রক্তসঞ্চার করা হয়েছে
সিপিআর, এবং প্রয়োজনীয় সব জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে
বারবার অবস্থা খারাপ হচ্ছিল, যা পরিবারকে জানানো হচ্ছিল
ভেন্টিলেটরে স্থানান্তরের আগে নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের স্বাক্ষর নেওয়া হয়
সুতরাং পরিবারের “অবস্থা খারাপ হওয়ার খবর জানানো হয়নি” অভিযোগ হাসপাতাল অস্বীকার করেছে।
প্রশ্ন উঠতে পারে কেন বারবার একই হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ইন্দ্রজিৎ বসুর বক্তব্য,
“আমি মাত্র দুই মাস ধরে এখানে রয়েছি, এর আগে কী ঘটেছে জানি না। আমার সময়ে এই প্রথম মৃত্যু হয়েছে। আমরা প্রতিটি রোগীকে বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি।”
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে হাসপাতাল আরও সতর্ক হবে এবং রোগীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগে কোনও ঘাটতি যাতে না থাকে, সে দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







