দুর্গাপুজোর আনন্দ ও প্রতিমা বিসর্জনের পর ত্রয়োদশীর দিন শীতলা মাতার আরাধনায় মেতে উঠল হাওড়ার আমতা ১ নম্বর ব্লকের রসপুর গ্রামের রায়পাড়ার বাসিন্দারা। রসপুর মাতৃভান্ডারের পরিচালনায় আয়োজিত এই পুজোকে ঘিরে এলাকায় ছিল ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যের আবহ। রায় পরিবারের দুর্গাপুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই শীতলা মাতার পুজো বহু বছরের পুরনো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরম্পরার অংশ।
রায় পরিবারের সদস্য তথা মাতৃভান্ডারের সম্পাদক পিনাকী (কৌশিক) রায় জানান, শীতলা মাতার পুজোর ইতিহাস জানতে হলে রায় পরিবারের উৎপত্তি, দুর্গাপুজোর সূচনা এবং মাতৃভান্ডার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।
রায় বংশের ইতিহাস প্রসঙ্গে অসীম মিত্র জানান, রসপুরের রায় পরিবার কাশ্যপ গোত্রের দেব বংশের একটি শাখা থেকে উদ্ভূত। পরিবারের আদি পুরুষ যশশ্চন্দ্র রায় বর্ধমান জেলা থেকে রসপুরে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন বলে বিভিন্ন প্রামাণ্য পুস্তক, দলিল ও লোককথায় উল্লেখ রয়েছে। শেরশাহের শাসনকালে তিনি রাজকীয় মর্যাদা ও ‘রায়’ উপাধি লাভ করেন বলে পারিবারিক ইতিহাসে জানা যায়। ১৫৪৫ সালে তিনি নিজের বাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন করেন বলে দাবি পরিবারের।
পরবর্তীকালে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৮৮৮ সালে রায় পরিবারের সদস্য পুলিনচন্দ্র রায়ের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘মাতৃভান্ডার’। এলাকার শিক্ষা, আর্থিক উন্নয়ন, দরিদ্র মানুষের সহায়তা এবং অসচ্ছল পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সাহায্য করাই ছিল এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য।
একসময় শীতলা মাতার পুজো উপলক্ষে যাত্রাপালা, নাটক, হরিনাম সংকীর্তন, শীতলা মাতার গান-সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতো। সময়ের পরিবর্তনে সেই আয়োজন ছোট হয়েছে। তবে এখনও গ্রামের ছাত্রছাত্রীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতী পড়ুয়াদের সম্মান জানায় মাতৃভান্ডার।
রসপুর বালিকা বিদ্যালয় ও রসপুর উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বরপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের ‘আরতী রায় স্মৃতি মেধা’ পুরস্কার প্রদান করা হয়। ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজসেবার এই ধারাই আজও মাতৃভান্ডারের অন্যতম পরিচয়।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







