রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের (২০২৬) প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল। তার আগে রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার বীরভূম জেলার নির্বাচনী প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে ভোটারদের অভয় দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজকুমার আগরওয়াল। এদিন তিনি দুবরাজপুরের যশপুর গ্রামের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাঁদের নির্ভয়ে বুথে যাওয়ার আহ্বান জানান।
ভোট যখন বাঙালির উৎসব:
প্রশাসনিক স্তরে বৈঠকের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস জাগাতে এদিন এক অভিনব তুলনা টানেন মনোজকুমার আগরওয়াল। তিনি বলেন:
-
উৎসবের মেজাজ: ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “আপনারা যেমন ঘুরে ঘুরে দুর্গাপুজো দেখেন, তেমনই নির্ভয়ে বুথে গিয়ে ভোট দেবেন।” তাঁর লক্ষ্য হলো নির্বাচনের দিনটিকে ভয়ের বদলে একটি গণতান্ত্রিক উৎসব হিসেবে সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা।
-
প্রশাসনের সজাগ নজর: তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কোথাও কোনো সমস্যা হলে প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না।
বীরভূমে ঠাসা কর্মসূচি
বীরভূমের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আইন-শৃঙ্খলার ওপর বিশেষ জোর দিতে এদিন একগুচ্ছ বৈঠক করেন সিইও:
-
জেলা আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক: জেলাশাসক ধবল জৈন এবং পুলিশ সুপার সূর্যপ্রসাদ যাদবের সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন।
-
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ: সিউড়ির সার্কিট হাউসে সর্বদলীয় প্রতিনিধিদের কথা শোনেন এবং নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করেন।
-
রামপুরহাটে পর্যালোচনা: বীরভূমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা রামপুরহাটেও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরে প্রস্তুতি ঝালিয়ে নেন।
অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান প্রস্তুতি:
উল্লেখ্য, গত একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলো। তবে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে সেই হিংসার ছবি অনেকটাই বদলেছে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। ছাব্বিশের নির্বাচনে সেই ‘শান্তিপূর্ণ’ ধারা বজায় রাখাই এখন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। বীরভূমে সিইও-র এই সক্রিয়তা সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।
Author: Supravat Bangla
PRGI Approved - WBBEN/25/A1519







